...

খায়রুজ্জামান লিটন শুধু নেতা নয়, একজন চেইঞ্জ মেকার

মো. আবদুল কুদ্দুস: একটি দেশের সার্বিক ও সুষম উন্নয়ন তখনই ঘটে যখন দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের উন্নয়নে উদ্ভাবনী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। স্থানীয় সরকারের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি কর্পোরেশন সেই কাজ সঠিকভাবে করতে সক্ষম হবে বলে আমরা মনে করি। পৃথিবীর অন্যসব উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য তাই এই বছরের প্রথম থেকে স্থানীয় সরকারের অধীন দেশের বড় বড় সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আসছে আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষ করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম এএইচএম কামারুজ্জামানের সুযোগ্য পুত্র জনাব এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন “চলো আবারো বদলে দেই রাজশাহী” স্লোগানে রাজশাহীবাসীর হৃদয়ে স্বপ্নের জাল বুনে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। প্রাচ্যের ভেনিস নামে খ্যাত বরিশাল নগরীতে আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আবদুল্লাহ “বরিশাল নগর ও জনজীবনের উন্নয়নই আমার নির্বাচনী ইশতেহার” স্লোগানকে ধারণ করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। অন্যান্য সকল সিটিতেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাঁদের সর্বোত্তম উদ্ভাবনী নির্বাচনী স্লোগান ব্যবহার করে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন। ঠিক এরকমভাবে একটি স্বপ্নের দেশ, একটি স্বপ্নের নগরী গড়ে তুলতে পৃথিবীর বাঘা বাঘা সব রাজনৈতিক নেতারা কালজয়ী স্লোগান জনগণের সামনে তুলে ধরে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে সেই মোতাবেক দেশ গড়ে পৃথিবীতে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। যেমন আমাদের বাঙালি জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ব্যববহার করে বাংলার আপমর জনসাধারণকে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন।

মহাগ্রন্থ পবিত্র আল-কোরআনের সূরা আস-সাবা’র ১৫-১৯ নং আয়াতে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালা বিশুদ্ধ নগরী বা রাষ্ট্র, শান্তির নগরী বা রাষ্ট্র এবং দীপ্তিমান নগরী বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ব্যক্ত করেছেন। সেই ইতিহাসের সাথে যদি তুলনা নাও করি তবে, সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্লেষকগণ বিশুদ্ধ নগরী বলতে, যে নগরী মশক, ছারপোকা, বৃশ্চিক জাতীয় পোকা মাকড়ের ঝামেলা থেকে নগরবাসী মুক্ত থাকবে তাকে বুঝিয়েছেন। অন্যদিকে দীপ্তিমান নগরী বলতে, ব্যবসা বাণিজ্যের উপযুক্ত, বাসপোযোগি নগরী, পরিচ্ছন্ন নগরী, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত নগরীকে নির্দেশ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের এই আয়াত থেকে মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষের জন্য উত্তম নগরীর কথা বর্ণনা করেছেন যাতে মানুষ কৃতজ্ঞ হয়। শান্তির নগরী, বিশুদ্ধ নগরী এবং দীপ্তিমান এই নগরীগুলো এমন রাষ্ট্র বা নগরী হবে, যা হবে ধনী গরিবের সম্মিলিত সুখের নগরী, রং বে-রংঙের বৃক্ষ, সুস্বাদু ফল, ফুল ও ছায়া সুনিবিড় বৈষম্যহীন নগরী, সৎ, যোগ্য ও ধর্ম ও নৈতিক আদর্শের বলে বলীয়ান নেতার আদেশে পরিচালিত প্রশংসিত নগরী।

রাজশাহী নগরীর মেয়র প্রার্থী ও জননন্দিত আওয়ামী লীগ নেতা জনাব এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন অন্য সকল সিটির মেয়র প্রার্থীদের থেকে একটু ব্যাপক পরিসরে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। আসলে জনাব লিটন রাজশাহীর নগর ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য শুধু ভোটভিত্তিক কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন না। তিনি এবং তাঁর পরিবারের তিন প্রজন্মের জাতীয় নেতৃবৃন্দের সবাই রাজশাহী মহানগর ও এর মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বহু বছর ধরে। সাবেক মেয়র লিটন রাজশাহীর নিচু শ্রেণী থেকে শুরু করে উচু শ্রেণী এমন কোন জাত নেই যে, তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাওয়াত গ্রহণ করে উপস্থিত হয়ে তাদের সুখ দুঃখের কথা শুনেন নি। তিনি আসছে আগামী ৩০ জুলাই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিন¤্রচিত্তে রাজশাহীর মানুষের কাছে “মহানগরবাসীর প্রতি আবেদন” শিরোনামে আবারো এই নগরীর নগর পিতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। রাজশাহী মহানগরীর সকল মানুষ তাঁর সেই আবেদনে সাড়া অবশ্যই দিবেন বলে আমরা সবাই প্রবল আশাবাদী। একমাত্র লিট ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজশাহী হয়ে উঠতে পারে বিশুদ্ধ নগরী এবং দীপ্তিমান নগরী।

একটি শান্তিপূর্ণ নগরী, উন্নত রাষ্ট্র, সুখি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে রাষ্ট্র নায়কগণ অতীতে যেমন শ্রম দিয়েছেন আজ অবধি নানামাত্রিক সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে তাঁরা উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে হাজির হচ্ছেন। এই বিষয়ে কতিপয় উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, যেমন, সম্প্রতি মালোশিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নাজিব রাজ্জাক তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার স্লোগান রেখেছিলেন Ò Rebuild the country” ওই নির্বাচনে বিজয়ী নেতা মাহাথির মোহাম্মাদ তাঁর দলের নির্বাচনী প্রচারণায় স্লোগান রেখেছিলেনÒ Make the country greater” মালোশিয়ার মহান ও দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতা মাহাথির মোহাম্মাদের রাজনীতি থেকে দীর্ঘ বিরতীর পর আবারো তিনি দেশটির মানুষকে ঘুষ দুর্নীতি হতে মুক্ত করতে রাজনীতির মাঠে নেমে পড়েন। তাঁর এই স্লোগান মালোশিয়ার মানুষ মনে প্রাণে গ্রহন করে। দেশটির জনগণ আধুনিক মালোশিয়ার রূপকার এবং রাজনীতির এই মহানায়ককে ব্যাপক সমর্থন প্রদান করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন। এ থেকে বুঝা যায় মানুষ শান্তি প্রত্যাশী।

এরকমভাবে যুগে যুগে পৃথিবীর নানা দেশে যেমন ২০১০ সালে বৃটেনের নির্বাচনে কনজার্ভেটিভ পার্টির স্লোগান ছিলো “Vote For Change”। ২০১৭ সালে বৃটেনের নির্বাচনে লেবার পার্টির নেতা জেরমি করবিন নির্বাচনী স্লোগান রেখেছিলেন “For the many, not the few অন্যদিকে থেরেসা মে তাঁর দলের স্লোগান রেখেছিলেন “Strong, stable leadership in the national interest”। এই নির্বাচনে বৃটেনের নেতারা কোথাও কোথাও “People before profit অর্থাৎ “মুনাফার চেয়ে মানুষ বড়’ এরকম নানারকম দূরদর্শী মানব হৃদয়স্পর্শী স্লোগান ব্যবহার করেন। সেই নির্বাচনে কনজারেভেটিব পার্টি বিজয়ও লাভ করে। ২০১৬ সালের আমেরকিার সাধারণ নির্বচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান ছিলো “Make America Great Again!” এবং তিনি বিজয়ও লাভ করেন। হিলারি ক্লিন্টন তাঁর প্রচারণায় ব্যবহার করেন “ঝঃৎড়হমবৎ ঞড়মবঃযবৎ” স্লোগানটি।

নির্বাচনে স্লোগান ব্যবহারের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে বুঝা যাবে রাজনৈতিক দলের নেতারা তাঁদের জনগণের মাঝে স্বপ্ন জাগাতে নানামাত্রিক উদ্ভাবনী স্লোগান ব্যবহার করেন। যেমন ১৮৪৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হেনরি ক্লেন ও ফ্রেনিংগুসেন ব্যবহার করেন “ঐঁৎৎধয!ঐঁৎৎধয! ঞযব ঈড়ঁহঃৎু’ং জরংরহম, ভড়ৎ ঐবহৎু ধহফ ঋৎবরষরহমযুঁংবহ”। ১৯১২ সালে উড্রো উইলসন ব্যবহার করেন “ঠড়ঃব ভড়ৎ ৮ যড়ঁৎ ডরষংড়হ”। ২০০০ সালে আল গোর ব্যবহার করেন “খবধফবৎংযরঢ় ভড়ৎ হবি গরষষবহহরঁস”। ২০০৮ সালে বারাক ওবামা ব্যবহার করেন “ণবং ডব ঈধহ” ও “ঈযধহমব ডব ঘববফ”। অস্ট্রেলিয়ার জন হাউয়ার্ড ২০০৭ সালে অর্থনীনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নির্বাচনী স্লোগান ব্যবহার করেন “ Stronger Together।

এক সময় ভারতীয় কংগ্রেসের অংশগ্রহনমূলক উন্নয়ন ও সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক স্লোাগান ছিলো Hurrah!Hurrah! The Country’s Rising, for Henry and Freilinghuysen"। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচনী স্লোগান ছিলো দারিদ্রতা হটাও অর্থাৎ “Vote for 8 hour Wilson”| । এই স্লোগানের পর ইন্ডিয়ার দুঃসময়ের অর্থনীেিতও দেশের গরীব মানুষের মধ্যে আশা জাগায় ও সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটে। ২০১১ সালের নির্বাচনে ভারতের তৃনমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানর্জির নির্বাচনী স্লোগাল ছিলো “ মা, মাটি ও মানুষ” । মমতা তাঁর এই স্লোগান ব্যবহার করে ক্ষমতায়ও অধিষ্ঠিত হোন।

বিশ্ববিখ্যাত এসব নেতাদের রাজনৈতিক দর্শনের সাথে মিল রয়েছে শুধু আমাদের প্রাণের নেতা খায়রুজ্জামান লিটনের। তাই এবারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটনের তথা রাজাশাহীর মানুষের প্রাণের স্লোগান “ চলো আবারো বদলে দেই রাজশাহী” এই স্লোগান ৩০জুলাই সারাদিন মানুষের ব্যাপক সমর্থনে জয়যুক্ত হবে ইনশাল্লাহ। খায়রুজ্জামান লিটন হবেন এই শহরের মেয়র। মানুষ পাবে শান্তি। স্বপ্নের নগরীতে তাঁরা শান্তিতে বাস করতে পারবেন। নগরজীবন হবে উন্নত। নগরের মানুষ মাদকের কালো থাবা থেকে মুক্তি লাভ করবে। সন্ত্রাসমুক্ত সুবজ নগরী পাবে। লিটন ভাইয়ের সমস্ত ধ্যান-জ্ঞান এই নগর ও নগরের মানুষের জীবনের উন্নয়নে প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন। সময় ও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তিনি করবেন বজায়যোগ্য উন্নয়ন। এই স্বপ্নের নগর বা রাষ্ট্রের জন্যই আমরা যেমন একজন মেয়র চাই, তেমনি তাঁকে চাই একজন চেইঞ্জ মেকার হিসেবে। অন্য কাউকেও নয়!!!

লেখক: শিক্ষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী

০৩ জুলাই ,২০১৮

...
...

অফিস

পূবালী মার্কেট(দ্বিতীয় তলা),
পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড,শিরোইল,
রাজশাহী,বাংলাদেশ।
মোবাইল(বার্তা কক্ষ):
01710058282
ই-মেইল:
sodeshbartanews@gmail.com info@sodeshbarta.com

সম্পাদক ও প্রকাশক

Card image

কামরুজ্জামান বাদশা


মোবাইল :01710058282
© কপিরাইট ২০১৬-২০১৭ স্বদেশ বার্তা