...

শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে রাজশাহীতে জমে উঠেছে কেনাকাটা

পাপন সরকার শুভ্র: শরতের নীল আকাশে মেঘের ভেলা। বাতাসে পূজার গন্ধ। বছর ঘুরে আবার মা আসবেন এ ধরায়। পূজা মানে খুশি। পূজা মানে আনন্দ। বিভিন্ন উৎসব ও পার্বণে নতুন জামা-কাপড় পরে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা, এই রীতি বহু আগে থেকেই চলে আসছে। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা দুয়ারে কড়া নাড়ছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর মহালয়া থেকে শুরু হয়েছে পূজার দিনগোনা। হাতে আছে মাত্র কয়েকদিন। এরপরেই শুরুহবে পাঁচ দিনব্যাপী বৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব। নতুন জামা-কাপড় পরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্তবিভিন্ন পূজামন্ডপ ঘুরা বেড়াবেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এখন কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। নগরের মার্কেট গুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। জমে উঠেছে পূজার কেনাকাটা। সকাল-রাত পর্যন্ত চলছে এই কেনাকাটা। মার্কেটের পাশপাশি ফুটপাতের কেনাকাটা মোটামুটি জমজমাট। এছাড়া ক্রেতা আকর্ষণে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন অফার ও ছাড়। দেশি কাপড়ের পাশাপাশি প্রায়ই সব দোকানেই রাখা হয়েছে পাকিস্তান, ভারত ও চায়নার কাপড়। কিশোর- কিশোরী, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীদের হাল ফ্যাশনের সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে মার্কেটগুলোতে।

নিউ মার্কেট, আরডিএ মার্কেট, সাহেববাজার কাপড়পট্টি, জলিল বিশ্বাস কমপ্লেক্স, গণকপাড়া মার্কেট এবং বিসিকের সপুরা সিল্ক মার্কেট সহ নগরীর বিভিন্ন ছোট- বড় মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র।

আরডি মার্কেটে অন্যান্য ক্রেতাদের পাশাপাশি তরুণদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। কারণ তরুণদের ফ্যাশনের সবকিছু পাওয়া যায় এখানে। তাই সেখানে ভিড় বেশি তরুণদের। নিজের পছন্দ অনুযায়ী জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি, পায়জামা ও বেল্ট ইত্যাদি ক্রয় করেছেন যে যার সাধ্যমত।

কুমারপাড়া থেকে আরডি মার্কেটে আসা অরবিন্দ চক্রবর্ত্তী বলেন, হাতে আর সময় বেশিদিন নেই। তাই এখান থেকে জিন্স প্যান্ট ও টি শার্ট ক্রয় করেছি। মোটামুটি সাধ আর সাধ্যের মধ্যে ক্রয় করতে পেরেছি। খুবই ভালো লাগছে। আশা করি পুজো এবার ভালো কাটবে।

নগরে কাপড়ের জন্য বিখ্যাত কাপড়পট্টির দোকানগুলোতে বেড়েছে তরুণীদের ভিড়। বোম্বের লেহেঙ্গা, গুজরাটের পার্টি শাড়ি, জয়পুরের জারদোছি শাড়ী, দেশি-বিদেশি থ্রি-পিস, লিভাইস, জারাহ, মাসা, লাইয়া, নতুন ফ্যাশনের সারারা বাহারি রঙ ও নানা ডিজাইনের সমাহার রয়েছে এখানে। তরুণীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী ক্রয় করছেন। তবে বিবাহিত নারীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে শাড়ি। প্রায় সব দোকানেই লাল-সাদা ও বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙের শাড়ি সাজানো। শাড়ির দোকানিরা বলছেন, কাতান, তসর, সিল্ক, জয়পুরি ও ভারী কাজের শাড়িগুলো পূজায় বেশি চলে।

রনি নামের এক দোকানি বলেন, বুধবার থেকে ভালোই ভিড় হচ্ছে। শেষ দিকে গিয়ে আরও বাড়বে।’ দামের ব্যাপারে বলেন, দেড় থেকে পাঁচ হাজার টাকা দামের শাড়িই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

অবন্তী রায় মা ও বোনকে নিয়ে এসেছেন কেনাকাটা করতে। আরও কয়েকটি পোশাক কিনলেও শাড়ি ছাড়া তাঁর পূজা হয় না। তিনি বলেন, ‘অষ্টমী ও দশমীতে লাল-সাদা শাড়ি পরা হয়। এবারও ও রকম শাড়ি কিনব।

এছাড়া পোশাকের পাশাপাশি কসমেটিকস ও জুতার দোকানগুলোতে লক্ষ করা গেছে ক্রেতাদের ভিড়। নিজের পোশাকের কালারের সাথে মিলিয়ে নিচ্ছেন কসমেটিকস ও জুতা।

শাড়ির দোকানে কেনাকাটা চললেও দরজি দোকানগুলোতে পূজার জন্য তেমন ভিড় নেই। ফ্যাশান টেইলার্স নামের একটি দরজি দোকানের মাস্টার বলেন, পূজায় তাঁরা তেমন কোনো ফরমাশ পান না। অল্প কিছু পোশাক বানানো হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, শেষদিকে এসে পূজার কেনাকাটা জমে ওঠেছে। সকালে ভিড় একটু কম হলেও বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাড়ে ক্রেতা। বিক্রিও মোটামুটি ভালো। ক্রেতাদের চাহিদার সবকিছু রাখা হয়েছে। সাধ্যের মধ্যে ক্রেতাদের সন্তুষ্টি করাই আমাদের লক্ষ। হাতে আরো কয়েকদিন সময় আছে। আশা করি কাল ও পরশু বেচা-বিক্রি আরো জমে উঠবে।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

...
...

অফিস

পূবালী মার্কেট(দ্বিতীয় তলা),
পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড,শিরোইল,
রাজশাহী,বাংলাদেশ।
মোবাইল(বার্তা কক্ষ):
01710058282
ই-মেইল:
sodeshbartanews@gmail.com info@sodeshbarta.com

সম্পাদক ও প্রকাশক

Card image

কামরুজ্জামান বাদশা


মোবাইল :01710058282
© কপিরাইট ২০১৬-২০১৭ স্বদেশ বার্তা